শাহরুখের মন্নতে মন্নত পূরণ করেছিলেন অন্য বলি তারকারা! অন্দরমহলে হয়েছিল শুটিংও।

10th December 2023 11:54 pm Country News
শাহরুখের মন্নতে মন্নত পূরণ করেছিলেন অন্য বলি তারকারা! অন্দরমহলে হয়েছিল শুটিংও।


হিন্দি ফিল্মজগতে কেরিয়ার গড়ে সাফল্য পেয়েছিলেন রাতারাতি। ৫৮ বছর বয়সে পা দিয়েও বক্স অফিস কাঁপিয়ে চলেছেন বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খান। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাড়ি কেনা।

সাক্ষাৎকারে শাহরুখ বলেছিলেন, ‘‘আমার বাবা-মা দু’জনেই মারা গিয়েছিলেন। সেই অর্থে আমার নিজের বাড়ি ছিল না। তাই প্রতি দিন স্বপ্ন দেখতাম কবে নিজের বাড়ি হবে। আমার সন্তান হওয়ার পর মন্নত কিনেছিলাম। মন্নত আসলে আমার পরিবারের বাড়ি।’’ তবে শাহরুখের মন্নতে বলিপাড়ার অন্য বলি তারকারাও তাঁদের ‘মন্নত’ (ইচ্ছা) পূরণ করেছিলেন। মন্নতের অন্দরমহলে হয়েছে একাধিক হিন্দি ছবির শুটিংও। 

১৯১৪ সালে একটি পার্সি পরিবার তৈরি করেছিলএই বাড়ি। অবশ্য তখন এর নাম ‘মন্নত’ ছিল না। সামনে বিশাল বাগান-সহ সেই বাংলো পরিচিত ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে। নব্বইয়ের দশকে হাতবদল হয়ে একটি রিয়েল এস্টেট ফার্মের দখলে চলে যায় ভিলা ভিয়েনা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ২০০১ সালে বাংলোটি কেনেন শাহরুখ। বাড়ির নাম রাখেন মন্নত। তবে শাহরুখ কেনার আগে মন্নতে প্রচুর হিন্দি ছবির শুটিং হয়েছিল বলে জানা যায়। রাজেশ খন্না, অনিল কপূর, নানা পটেকর, আমির খান-সহ বহু বলি তারকার ছবির শুটিং হয়েছে এখানে। 

১৯৫৯ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘আনাড়ি’। রাজ কপূর অভিনীত এই ছবিতে ‘কিসি কি মুসকুরাহাটো পে’ গানের শুরু এবং অন্তিম দৃশ্য মন্নতের সামনে শুট করা হয়। ১৯৭০ সালে অসিত সেনের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘সফর’ ছবিটি। এই ছবিতে রাজেশ খন্না, শর্মিলা ঠাকুর এবং ফিরোজ় খানের মতো বলি তারকারা অভিনয় করেন। 

‘সফর’ ছবিতে শেখর কপূরের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় ফিরোজ়কে। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ছবিতে শেখরের যে বাড়িটি দেখানো হয়েছে তা আসলে মন্নত। 

১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজা রানি’ ছবিতে অভিনয় করেন রাজেশ খন্না এবং শর্মিলা ঠাকুর। এই ছবিতে এক চোরের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় রাজেশকে।‘রাজা রানি’ ছবির একটি দৃশ্যে রাজেশকে মধ্যরাতে একটি বাড়ির ভিতর ঢুকে চুরি করতে দেখা যায়। বলিপাড়া সূত্রে খবর, মন্নতের ভিতর এই দৃশ্যের শুটিং করা হয়। 

১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেজ়াব’ ছবিটি বলি অভিনেতা অনিল কপূরের কেরিয়ারের হিট ছবির মধ্যে অন্যতম। অনিলের পাশাপাশি এই ছবিতে অভিনয় করেন মাধুরী দীক্ষিত। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘তেজ়াব’ ছবিতে মাধুরীর যে বাড়িটি দেখানো হয়েছে তা মন্নতের অন্দরমহল। সেখানেই ‘এক দো তিন’ গানের দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে।

১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাখ’ ছবিতে অভিনয় করেন আমির খান, সুপ্রিয়া পাঠক এবং পঙ্কজ কপূরের মতো বলি তারকারা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, এই ছবির শুটিং হয়েছে মন্নতে।

১৯৯২ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘অঙ্গার’ ছবিটি। এই ছবিতে অভিনয় করেন নানা পটেকর, জ্যাকি শ্রফ, ডিম্পল কাপাডিয়া, নীনা গুপ্ত, কাদের খান, ওম পুরির মতো তারকারা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘অঙ্গার’ ছবিটি শুরুর প্রথম কয়েকটি দৃশ্যে মন্নতের একাধিক শট দেখানো হয়েছে। এই ছবিতে মন্নতের ভিতরে শুটিং করেছিলেন নানা এবং কাদের।

১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাশা’ নামের একটি তামিল ছবিতে অভিনয় করেন রজনীকান্ত। বলিপাড়া সূত্রে খবর, রজনীকান্তকে এই ছবির কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্যে মন্নতের বাইরে অভিনয় করতে দেখা যায়।

মন্নতের বাইরে শুটিং করেন শাহরুখ নিজেও। ১৯৯৭ সালে আজিজ মির্জার পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ইয়েস বস্’। এই ছবিতে শাহরুখের পাশাপাশি অভিনয় করেন জুহি চাওলা, জনি লিভার, আদিত্য পাঞ্চোলি, রাকেশ বেদী, গুলশন গ্রোভারের মতো তারকারা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘ইয়েস বস্’ ছবিতে ‘চাঁদ তারে’ গানের দৃশ্যটি মন্নতের বাইরে শুট করা হয়েছিল। গানের দৃশ্যে অভিনয় করেন শাহরুখ নিজেই। তার কয়েক বছরের মধ্যে মন্নত কিনে ফেলেন ‘বাদশা’।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।