চিকিৎসা ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে এই ফাইভ-জি প্রযুক্তি?

21st October 2023 7:33 pm Country News
চিকিৎসা ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে এই ফাইভ-জি প্রযুক্তি?


কলকাতায় চিকিৎসা ক্ষেত্রের সঙ্গেও এ বার জুড়ে গেল অত্যাধুনিক ফাইভ-জি প্রযুক্তি। অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীর চিকিৎসায় ডাক্তারের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণের জন্য এখন আর হাসপাতাল পৌঁছনো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। অ্যাম্বুল্যান্সে থাকাকালীনই চিকিৎসকের নজরদারিতে তাঁর শুশ্রূষা শুরু করে দেওয়া সম্ভব হবে। সৌজন্যে অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটালস কলকাতার ফাইভ-জি প্রযুক্তি যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স।

এতকাল হাসপাতালে পৌঁছনো পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা চিকিৎসা কর্মী এবং অ্যাম্বুল্যান্স কর্মীরাই রোগীকে পর্যবেক্ষণ করতেন। তাঁরাই যোগাযোগ করতেন চিকিৎসকের সঙ্গে। প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে হলে এই কর্মীদের চোখ দিয়েই রোগীকে দেখতে হত চিকিৎসককে। ভরসা করতে হতো তাঁদের মুখের কথায়। অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালে পৌঁছলে তবেই সামনাসামনি রোগীকে দেখতে পেতেন চিকিৎসক। ততক্ষণে অনেকটা সময় চলে যেত।

 

ফাইভ-জি প্রযুক্তির সাহায্যে এই প্রক্রিয়াটাই অনেকখানি বদলে যাচ্ছে। শুরু থেকেই রোগীকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন চিকিৎসক। কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটালস -এ শুরু হয়ে গিয়েছে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ। হাসপাতালের ফাইভ-জি অ্যাম্বুল্যান্সে হাতে কলমে চলছে এই প্রযুক্তির ব্যবহার।

 

ঠিক কেমন ভাবে এই গোটা প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, তা বুঝিয়ে বললেন অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হসপিটালস -এর জরুরি বিভাগের প্রধান এবং সিনিয়র এমার্জেন্সি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরিজিৎ বোস। তাঁর কথায়, “শুধুমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স স্টাফের মুখের কথার উপরে নির্ভর না করে এখন সরাসরি রোগীকে দেখতে পাব। শুধু রোগীকে দেখাই নয়, তাঁর ভাইটালস, ইসিজি রেকর্ডিং, ব্লাড প্রেশার দেখে প্রয়োজনে তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্তও নিতে পারব।”

ফাইভ জি প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে চিকিৎসক বোস বলেন, “৫জি প্রযুক্তির সাহায্যে সুপার ফাস্ট ভিডিও স্ট্রিমিং হয়। ফলে আমরা রিয়েল টাইমে, রোগীর প্রতিটা মুহূর্তের ছবি লাইভ দেখতে পাই। মনে হয় যেন রোগীর পাশেই বসে আছি। সেই ছবি এত দুর্দান্ত স্পষ্ট যে, মনে হয় আমিও যেন অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরেই রয়েছি। ফলে সেখানে কী হচ্ছে, তা জানার জন্য আর অ্যাম্বুল্যন্স স্টাফের বিচক্ষণতার উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে না। রোগী কেমন আছেন, তাঁর অবস্থায় উন্নতি হচ্ছে না অবনতি, তার ভাইটালস ঠিকঠাক আছে কি না, সবটাই স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। ফলে হাসপাতালে কনসোলের সামনে বসেই আমি অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীর চিকিৎসা পরিচালনা করতে পারছি।”





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।