পশ্চিমবঙ্গের মুকুটে জুড়ল আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান। রাজ্যের পরিবেশবান্ধব ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্প 'মাটির সৃষ্টি' (Matir Srishti)-কে বিশেষ স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (UN-FAO)। পাশাপাশি, রাজ্যের তিনটি ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চাল জাতিসংঘের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে যা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা ও ইতিবাচক খবর।
‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প কী এবং কেন এই স্বীকৃতি?
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ, শুষ্ক এবং পতিত জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে 'মাটির সৃষ্টি' প্রকল্প চালু করা হয়।
-
লক্ষ্য: অনুর্বর জমিকে ব্যবহারযোগ্য করে সেখানে উদ্যানপালন, সবজি চাষ এবং মিশ্র কৃষিকাজের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
-
জাতিসংঘের মূল্যায়ন: প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই উদ্যোগ একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত। পতিত ও একফসলি জমিকে যেভাবে বহুফসলি এবং উর্বর জমিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে, তা বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি অনন্য মডেল।
বিশ্বমঞ্চে বাংলার সুগন্ধি চালের জয়জয়কার
প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের তিনটি বিখ্যাত সুগন্ধি চাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কেড়েছে:
-
গোবিন্দভোগ
-
তুলাইপাঞ্জি
-
কনকচূড়
এই চালগুলির গুণমান, সুগন্ধ এবং পুষ্টিগুণের জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বিশেষ শংসাপত্র প্রদান করেছে। এর ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলার এই নিজস্ব চালগুলির চাহিদা, কদর ও রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন কৃষি ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
এই অসামান্য সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে রাজ্যের সমগ্র গ্রামীণ সম্প্রদায়, বিশেষ করে কৃষকদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। তিনি জানান, বাংলার কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং পরিবেশের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার কারণেই আজ বিশ্বমঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ এই বিশেষ সম্মান লাভ করেছে।