হার না মানার গল্প চন্দু চ্যাম্পিয়ন বলিউডের এই বায়োপিক কেমন হল? পড়ুন রিভিউ

16th June 2024 4:33 pm Country News
হার না মানার গল্প চন্দু চ্যাম্পিয়ন বলিউডের এই বায়োপিক কেমন হল? পড়ুন রিভিউ


সিনেমার মতোই শুরু করা যাক। কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার উপর হামলা। আকাশ থেকে গুলিবৃষ্টি। ধুলো, ধোঁয়া, বারুদের তীব্র গন্ধ আর মুরলীকান্ত পেটকর। একের পর এক গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল তাঁর শরীর। কিন্তু প্রাণ কেড়ে নিতে পারেনি। কেড়ে নিতে পারেনি লড়াই করার মানসিকতা। 'চন্দু চ্যাম্পিয়ন' (Chandu Champion) আসলে এমনই এক খেলোয়াড়ের হার না মানার গল্প।আর এই গল্পের ভিত বাস্তব। যা সিনেমার পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক কবীর খান। আর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কার্তিক আরিয়ান (Kartik Aaryan)।ভারতের প্রথম প্যারালিম্পিক গোল্ড মেডেলিস্ট, পদ্মশ্রী মুরলীকান্ত পেটকর। তাঁর জীবন অবলম্বনেই চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন কবীর খান, সুমিত অরোরা ও সুদীপ্ত সরকার। স্বাধীনতার আগে মহারাষ্ট্রের সাংলি এলাকার ইসলামপুরে জন্ম মুরলীকান্তের। দামাল ছেলের চোখে একটাই স্বপ্ন। অলিম্পিকে খেলা। দেশের জন্য পদক আনা। এর জন্যই পালোয়ান হওয়ার চেষ্টা। আদর্শ তখন দারা সিং। কিন্তু মুরলীকান্তর এই স্বপ্নই তাঁকে হাসির খোরাক করেছিল। ব্যঙ্গ করেই নাম দেওয়া হয়েছিল ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’। কারণ ‘চন্দু’ মানে ‘হেরো’।কিন্তু এই ‘হেরো’ তকমা মানতে রাজি ছিলেন না মুরলীকান্ত। তাই তো চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। জার্নেল সিংয়ের কথামতো যোগ দিয়েছিলেন সেনায়। শুধু খেলোয়াড় হবেন বলে। কিন্তু অত সহজে কি আর সব কিছু সবসময় হয়? কোচ টাইগারের সতর্কবাণী সত্ত্বেও মুরলীকান্ত হলেন লক্ষ্যভ্রষ্ট। তার পরই ১৯৬৫-র ভারত-পাক যুদ্ধ। একের পর এক গুলি ঝাঁজরা করে দেয় মুরলীকান্তর শরীর। প্রায় দুবছর কোমায় থাকার পর ফিরল জ্ঞান। কিন্তু বুলেট কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার শক্তি।ভাগ্যের এই পরিহাস মেনে নেননি মুরলীকান্ত পেটকর। কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি? একজন মানুষ যিনি প্রথমে ছিলেন কুস্তিগীর, তার পর হলেন বক্সার। আবার পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে কীভাবে সাঁতারু হয়ে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছলেন? সেই গল্পই বড়পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন কবীর খান। মুরলীকান্তের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজের চেহারায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন কার্তিক আরিয়ান। নিজের প্রিয় মিষ্টিও ত্যাগ করেছিলেন। অত্যন্ত সৎভাবে ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার চেষ্টা করেছেন কার্তিক। 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।