নববর্ষের ভোজে থাকুক পড়শি রাজ্য বিহারের ছোঁয়া! পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই বানিয়ে ফেলুন মৈথিলী মাংস

12th April 2024 8:35 pm Country News
নববর্ষের ভোজে থাকুক পড়শি রাজ্য বিহারের ছোঁয়া! পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই বানিয়ে ফেলুন মৈথিলী মাংস


নিরামিষ মাংস? তা-ও আবার হয় নাকি? এ যেন সোনার পাথরবাটি। কিন্তু যদি ফিরে দেখেন, দেখবেন শাক্ত মন্দিরে বলির পাঁঠার মাংস পেঁয়াজ -রসুন বর্জিত এক অনন্য উপায়ে রান্না করেই মায়ের পায়ে নিবেদিত হয়। লোকমুখে তার নামই হয়েছে নিরামিষ মাংস। এত দিন এর কথাই জানতাম। কিন্তু পরে রেণুকাদেবীর লেখায় জানতে পারি, এরই এক প্রকারভেদের কথা, যা আমাদের পড়শি রাজ্য বিহারের ঐতিহ্য। বড় মায়াময় তার নাম। জনকের হলকর্ষণের সময়ে যে কন্যার আবির্ভাব, যিনি পরবর্তী কালে হয়ে ওঠেন আমাদের মহাকাব্যের মহানায়িকা, তাঁর নামেই এ মাংসের পদের নাম বড় আদরের সঙ্গে রাখা হয়েছে মৈথিলী মাংস। ইদানীং বহুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিহারের চম্পারন মাংস। মাটির হাঁড়িতে মাংসের সঙ্গে সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে নিয়ে দমেই হয় সেই রান্না। কিন্তু সে রাজ্যেরই মৈথিলী মাংসের স্বাদ আরও অপূর্ব। সামান্য উপকরণ দিয়েই বানিয়ে ফেলা যায় মাংসের এই পদটি। নববর্ষের ভোজে ভিন্ন স্বাদের মাংসের কোনও পদ রাঁধতে হলে এই পদটিকে কিন্তু রাখতেই পারেন পছন্দের তালিকায়।

 

উপকরণ:

 

৫০০ গ্রাম পাঁঠার মাংস

৩ টেবিল চামচ টক দই

 

১ চা চামচ লঙ্কার গুঁড়ো

 

১ চা চামচ ধনে গুঁড়ো

 

১ চা চামচ জিরে গুঁড়ো

 

২ চা চামচ দারচিনি গুঁড়ো

 

দেড় চা চামচ আদা বাটা

 

আধ চা চামচ হিং

 

স্বাদ অনুযায়ী নুন

 

২ টেবিল চামচ ঘি

 

১ চা চামচ চিনি

 

৪-৫টি ছোট এলাচ

 

৪-৫টি লবঙ্গ

 

প্রণালী:

 

প্রথম ধাপ: এ রান্নার জন্য প্রথমে একটি বড় পাত্রে মাংস নিয়ে নিন। তাতে একে একে ঢেলে দিন টক দই, লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, দারুচিনি গুঁড়ো, আদাবাটা আর হিং। সব উপকরণ মাংসের সঙ্গে খুব ভাল করে মেখে নিয়ে রেখে দিন ঘণ্টাখানেকের জন্য।

 

দ্বিতীয় ধাপ: এ বার কড়াই আঁচে বসান। তাতে কোনও ফোড়ন বা তেল না দিয়েই ঢেলে দিন আগে থেকে মেখে রাখা মাংস। এর পর ঢেলে দিন দুই থেকে আড়াই কাপ জল। খানিক ক্ষণ পর স্বাদ অনুযায়ী নুন দিয়ে ভাল করে নাড়াচাড়া করে নিয়ে আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন কড়াইটি।

তৃতীয় ধাপ: মাঝেমধ্যে ঢাকা খুলে রান্নাটি নাড়িয়ে দিয়ে আবারও ঢাকা দিয়ে দিন। এ সময়ে যদি জল বেশি শুকিয়ে যায়, তবে অল্প করে গরম জল মিশিয়ে দিতে পারেন। যদি সময়ের অভাব থাকে, তা হলে প্রেশার কুকারের ব্যবহার করতেই পারেন।

 

চতুর্থ ধাপ: যখন দেখবেন মাংস সুসেদ্ধ হতে আর মিনিট পাঁচেক বাকি, তখন কড়াইটি আঁচ থেকে নামিয়ে আর একটি কড়াই আঁচে বসান। তাতে ঘি গরম করে দিয়ে দিন চিনি। চিনিতে রং ধরলে ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি গুঁড়ো আর সামান্য হিং মিশিয়ে দিন। মশলা থেকে সুগন্ধ বার হলে তাতে দিয়ে দিন আগে থেকে রান্না করে রাখা মাংস। এ বার আঁচ বাড়িয়ে দিন।

 

পঞ্চম ধাপ: মাংস ভাল ভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে এবং ঝোলের উপরে তেল ভেসে উঠলেই বুঝবেন তৈরি হয়ে গিয়েছে অপূর্ব স্বাদের মৈথিলী মাংস। ভাত কিংবা পোলাওয়ের সঙ্গে এই পদটি পরিবেশন করলে জমে যাবে নববর্ষের ভূরিভোজ।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।