দোলের সময় চড়া দাম দিয়ে ভেষজ রং না কিনে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘরেই! রইল সহজ পদ্ধতি

18th March 2024 3:35 pm Country News
দোলের সময় চড়া দাম দিয়ে ভেষজ রং না কিনে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘরেই! রইল সহজ পদ্ধতি


দোলের উৎসবকে ঘিরে কচিকাঁচাদের উৎসাহ আর আনন্দ বিপুল। বাজারে গেলেই লাল, নীল, সবুজ রঙের আবিরের ছড়াছড়ি। তবে এই সব আবিরে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শিশুদের কোমল ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তা হলে উপায়? বাজারে এখন বিভিন্ন সংস্থার ভেষজ আবির কিনতে পাওয়া যায় বটে, তবে সাধারণ রঙের তুলনায় ভেষজ আবিরের দাম হয় আকাশছোঁয়া। দাম দিয়ে কিনলেই তো আর হল না! ভেষজ রং বলে যেগুলি বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলি আদৌ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে কি? এই প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া মুশকিল! তাই এর বিকল্প হিসাবে এ বার হেঁশেলের উপকরণ দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন ভেষজ রং। খুদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে না হয় একটু সময় খরচ করলেন! জেনে নিন, কোন রং কী ভাবে বানাবেন।

১) হলুদ

 

হলুদ আর বেসন মজুত থাকে সব বাঙালি হেঁশেলেই। চার ভাগ বেসন ও এক ভাগ হলুদ ভাল করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে হলুদ রং। বেসন না থাকলে চালের গুঁড়োর সঙ্গেও মেশানো যেতে পারে হলুদ। অমলতাস কিংবা গাঁদা ফুলের পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিলেও মিলবে হলুদ রং।

২) সবুজ

 

পালং শাক বেটে নিন। এ বার সেই মিশ্রণটি ভাল করে ছেঁকে নিয়ে গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। তরল মিশ্রণটি বড় ট্রে-তে রেখে এক কাপ কর্নফ্লাওয়ার ভাল করে মিশিয়ে নিন। কোনও মণ্ড যাতে না থাকে, সে দিকে নজর রাখুন। এ বার মিশ্রণটি রোদে শুকিয়ে হাতে গুঁড়ো করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সবুজ রং।

৩) গোলাপি

 

বিটের রস তৈরি করে ভাল করে ছেঁকে নিন। এক কাপ বিটের রস নিয়ে তাতে এক টেবিল চামচ গোলাপ জল দিন। মিশ্রণটির সঙ্গে কর্নফ্লাওয়ার বা চালের গুঁড়ো খুব ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি রোদে কিংবা মাইক্রোওয়েভে শুকিয়ে নিন। এ বার হাত দিয়ে ভাল ভাবে গুঁড়ো করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে গোলাপি রং। খুব সূক্ষ্ম গুঁড়ো চাইলে মিশ্রণটি মিক্সিতেও ঘুরিয়ে নিতে পারেন।

 

৪) কমলা

 

কমলালেবুর খোসা গুঁড়ো করেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই রং। কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে নিন। এ বার কর্নফ্লাওয়ার আর সামান্য হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কমলা রং।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।